রম্য

কবিতা গল্প কথন ছবি বাংলাদেশ মালদ্বীপ হকি

একটা দুষ্টুমির গল্প বলব সময় হবে শোনার?সময় পেলে শুনিও নাইলে হয়ত তুমিও বলবে ইশরে মিস করে দিলাম, এমন পাগলীকে।আচ্ছা চলো বলি তবে গল্পটা।

-সময়টা তখন ২০১৭ বয়স তখন ১৭ কি ১৮ কিন্তু দেখতে লাগে কেবল প্রাইমারী পাশ করা ১১বছরের মেয়ের মত।
~তাতে কি হয়েছে?এখনও তো পিচ্চিই লাগে।
~ কি গল্প তাই বলো জলদি সময় নেই আফি।
-আচ্ছা বলছি তবে।

সে বার ঈদের ছুটিতে যাচ্ছিলাম নানু বাসায় ট্রেনে করে। ঈদের সময় প্রচুর ভীড় টিকিট কেটেও সীট পাওয়া অসম্ভব।তাই আমি আর আম্মু যাচ্ছিলাম শুধু। বেশ মজাই লাগছিল ট্রেন জার্নি করে যাব। মনে মনে ইচ্ছে হচ্ছিল যদি জানালার পাশে সীট একটা পেতাম আহা জমে যেত জার্নিটা কিন্তু যে ভীড় তাতে দাঁড়িয়েই যেতে হবে ৩ ঘন্টা মনে হচ্ছে। কি করার তাও বেশ মজাই লাগছে দাঁড়িয়ে। ট্রেনটা বেশ অনেকক্ষণ হলো ছেড়ে দিয়েছে বেশ প্রকৃতি দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন একদম ছবির মত। তখন শামসুর রহমানের সেই কবিতাটা মনে মনে পড়ছিলাম,”ট্রেন চলেছে ট্রেন চলেছে, ট্রেনের বাড়ি কই….”

হঠাৎ এত ভীড়ে হাল্কা গানের আওয়াজ পেলাম উল্টা দিকেই কিছু ভাইয়ারা গান গাচ্ছিল দেখেই আইডিয়া করছিলাম তারা ভার্সিটির স্টুডেন্ট।

এবারে আসল ঘটনা শুরু উনারাও খেয়াল করেন পিচ্চি মেয়েটা মায়ের সাথে দাঁড়িয়ে আর বড় বড় ভাইয়া হয়ে বসে। এক সিনিয়ার ভাইয়া এবার বলেই ফেললেন,” ছোট আপুকে বসতে দে”। আমি বসতে চাইনি কিন্তু আম্মু পাশেই দাঁড়িয়ে আর অনেক লোক দাঁড়িয়ে তাই বলল বসতে কথা না শুনলে আবার সবার সামনে ঝাড়ি দিলে মান সম্মান শেষ তাই বসেই গেলাম উনারা বেশ জায়গা করেই দিয়েছিল। প্রথম এ আমি চুপ করে বসে আছি উনারা ভাবছে আহা কি চুপচাপ একটা পিচ্চি মেয়ে। একটা স্টেশন ক্রস করতেই ভীড় অনেকটা কমে গেল আম্মুকেও অন্যরা বসার ব্যাবস্থা করে দিয়েছে কিন্তু একটু দূরের দিকে। এবার আমি আস্তে করে বললাম আমি জানালার পাশে বসব। উনাদের মধ্যের গল্প থামিয়ে তাড়াতাড়ি করে যে দুইজন ছিল দুই জানালার পাশে একজনকে জোর করে উঠিয়ে দেয়। আহা! বেশ জানালার পাশের প্রিয় সীট ও পেয়ে গেছি। যাকে উঠিয়ে দিয়েছিল সে এবার আমার সাথে কথা বলতে শুরু করে মনে হয় বেঁচারার সন্দেহ হইছে পিচ্চি কত পিচ্চি আসলে?
-আপি তুমি কোন ক্লাসে পড়ো?
~কেন ভাইয়া দেখে কোন ক্লাস মনে হয় আপনার?
পাশের থেকে আরেক সিনিয়ার গেস করে বলল কোন ক্লাস আবার ৫/৬।
আমিও উনার কথাতে সায় দিলাম জি হ্যাঁ নিউ ৬।এবার সন্দেহ দূর হয়েছে সিনিয়র এর।মনে মনে বেশ খুশিই ছিলাম আহা পিচ্চি পিচ্চি ফেস আমার তিব্বত ক্রিমের কি কামাল। উনাদের সাথে গল্প জুড়ে দিয়েছি কে কোন জেলা থেকে এসেছে,কত বছরের ফ্রেন্ড আরো অনেক কিছু।
আমি পিচ্চি তাই উনারাও বেশ বুঝায় বুঝায় কথা বলছে হাইস্কুল এ উঠছো এই করবা অই করবা ক্লাস ৮ এ জেএসসি ভালো করে দিবা। ৯এ সাইন্স নিতে হবে কিন্তু পিচ্চি বুঝছো?
~জি ভাইয়া বুঝেছি;চেষ্টা করব সাধ্যমতো।

এতক্ষণ সব ঠিক ছিল মনে মনে নিজেকে বলছি বাহ আফি উনারা বুঝতেও পারেনি তুই কোন ক্লাস আসলে চালায় যা জার্নি বেশ জমে গেছে।ট্রেন এবার আরেকটা স্টেশন থেমেছে এরপর সর্বশেষ স্টেশন খুলনার। আম্মু এবার ফাঁকা দেখে এগিয়ে এসে পাশের সারির সিটে বসেছে।
আম্মু বেশ মিশুক তাই উনাদের সাথে কথা বলা শুরু করে আর ধন্যবাদ দেয় এত ভীড়ে আমায় সিট দেওয়ার জন্য কষ্ট করে।
এক সিনিয়র বলে বসে আরে আন্টি কি যে বলেন,”এত ছোট মেয়ে ও কি আর এমন কষ্ট ওকে সিট দিতে।”
আম্মু শুধু ব্রু কুচকে আমার দিকে তাকায় একটু, এরপর বলে,” তা বাবা খুলনায় কোথায় ভার্সিটি কোচিং করলে ভালো হবে?”
-ভালো ভার্সিটি কোচিং?নাকি স্কুল কোচিং?(সিনিয়র)
এবার আমি বলে উঠি,”আম্মু চলো স্টেশন এসে যাচ্ছে এগিয়ে দাঁড়াই তাড়াতাড়ি যেতে পারব।”
আম্মু:-থাম তুই কথা বলতে দে।
আমি:-তুমি কথা বলো আমি তাইলে একটু এগিয়ে দাঁড়াই। ভাইয়া সাইড দেন বের হই।
আম্মু:-আরে শেষ স্টেশন তো এত তাড়াহুড়ো করিস কেন?তোর বয়স বাড়ছে কিন্তু বাচ্চা স্বভাব এখনো গেল না।
আমি:- হইছে হইছে গেলাম আমি তুমি থাকো।

এবারে যাকে জানালার সিট থেকে সরানো হয়েছিল তার সন্দেহ বেড়ে যায় আবার। জিজ্ঞেস করেই বসে ও কোন ক্লাসে পড়ে আন্টি?
আম্মু:- ক্লাস ১২ এ সামনেই এক্সাম দিবে। তাই তো জিজ্ঞেস করছি কোন কোচিং এ দিলে ভালো হবে?
আম্মু একাই বলে যাচ্ছে আর তারা চুপ করে শুনে যাচ্ছে শুধু। স্টেশন এসে গেছে আমি আগে আগেই গিয়ে গেটের কাছে দাঁড়ায় আছি আম্মু তখনও উনাদের সাথে কথা বলতে বলতে নামছে বুঝলাম আমার ভান্ডা সব ভাঙ্গছে।
রিক্সার ওঠার সময় সেই জানালার পাশের ভাইয়া আস্তে করে বলে গেল এই জার্নি মনে থাকবে।
ভাগ্যিস আর দেখা হইনি অনেক বছর ট্রেনেও যাইনি এই ঘটনার পর ভয়েই।
#রম্য
#আফির_ট্রেন_জার্নি
#Afia_Naima_Haque

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *