পবিত্র_সম্পর্ক

আন্তর্জাতিক কবিতা ছবি দেশীয় খেলা পাকিস্তান বিনোদন

কালো একটি গাড়ি থেকে কিছু লোক একটি নগ্নদেহী মেয়েকে ছুড়ে ফেলে দিল। মোবাইলের স্কিন থেকে চোখ সরিয়ে সেদিকে তাকিয়ে এই দৃশ্য দেখে মুখে থাকা হাসিটা চলে গেল রায়হানের। রাতের অন্ধকার আর মুখে মাক্স পরে থাকার কারনে লোকগুলোকে দেখতে পাড়ল না সে। বুঝতে বাকি রইলো না কিছু মেয়েটির সাথে কি ঘটেছে। ” ওই ” – বলে গাড়িটির পিছনে ছুটতে লাগলো রায়হান। কিছু দূর পর্যন্ত ধাওয়া করার পর ক্লান্ত হয়ে পড়ল সে, গাড়িটির সাথে পেরে উঠতে পারলো না। গড়ির নাম্বার দেখার চেষ্টা করলো কিন্তু চারটা সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পারলো না, গাড়িটি চলে গেল। চোখে ভাসছে একটু আগে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া মেয়েটর কথা। ‘ কি অবস্থায় আছে মেয়েটি ? সে কি এখনো বেঁচে আছে ? আচ্ছা মেয়েটাকে ফেলে গাড়িটার পিছনে ছুঁটা কি ঠিক হয়েছে ? নাহ মোটেও ঠিক হয়নি কাজটা ‘ ভেবে ফের ছুঁটলো মেয়েটির কাছে। নগ্না অবাস্থায় থাকা মেয়েটির দিকে না তাকিয়ে পরনে থাকা ব্লেজারটা খুলে ফেললো; পরক্ষনেই ভাবলো মেয়েটির দিকে না তাকিয়ে তো আর পরানো সম্ভব না। আশেপাশে তাকাতেই বন্ধ চায়ের দোকানের সামনে ঝুলানো বড় পর্দাটার দিকে চোখ গেল, এক ছুটে দৌড়ে সেটা নিয়ে এসে মেয়েটার শরীরে জরিয়ে দিল। মায়েটার মুখের উপর থেকে চুল সরিয়ে নাকের কাছে হাত নিয়ে দেখতে যাবে মেয়েটার নিশ্বাস চলছে কি-না তখনি খুব চেনা পরিচিত একটা মুখ ভেসে উঠলো। রায়হানের চারিদিক যেন ঝাপসা মনে হতে লাগলো। কিছুক্ষন নিশ্চুপ তাকিয়ে থেকে মেয়েটির দু’গালে দুই হাত রেখে অস্পষ্ট শোরে ” সাদিয়া ” বলে কান্নায় ভেঙ্গে পরলো।
” সাদিয়া খুব করে চাইতো এই লোকটিকে কাঁদার সময় দেখার, জ্ঞান থাকলে হয়তো সে ইচ্ছেটা পূরণ হতো ” —– ভেবে কান্নার শোর যেন কয়েক হাজার গুণ বেড়ে গেল।

চার বছর পর জাপান থেকে ফিরেছে রায়হান। তার বেশ কিছুদিন পর, কিশোর বয়সের ভালোলাগা অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারি সাদিয়া নামের মেয়েটির কথা বাসায় জানায়। বাবা – মায়েরও বেশ পছন্দ ছিল মেয়েটিকে। যেমন গুণবতী তেমনি রূপবতী সেই মেয়েটির কথা ভেবে তার সাথে আমজাদ চৌধুরি এবং তার স্ত্রী রেহানা বেগম বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সাদিয়ার বাবা – মাও বিয়েতে তাদের মত প্রদর্শন কনে । দুই পরিবার মিলে আগামি এপ্রিল মাসের ১২ তারিখ বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে।
আজ, বন্ধুদের সাথে দেখা করে বাড়ি ফিরছিল রায়হান; মাঝপথে গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। নির্জন এই রাস্তাটিতে রাতের বেলা গড়ি-ঘোড়া কমই চলাচল করে তার উপরে আশেপাশে কোন গ্যারাজ নেই যে, গাড়ি ঠিক করাবে। পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় যেন চারিদিকের সবকিছু অপূর্ব লাগছে রায়হানের । “এখান থেকে বাসাও বেশি দূরে নেই ” — ভেবে গড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে বলে,
– আমি বাসার দিকে হাঁটা দেই, ম্যাকানিক কে ফোন করেছি, আসছে। গাড়ি ঠিক হলে বাসায় নিয়ে এসো।
– আচ্ছা।
কিছুদূর আসার পর হঠাৎ পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে সাদিয়ার ছবি দেখতে লাগল রায়হান। সাদিয়ার হাঁসিভরা মুখটা দেখে মনের অজান্তেই ঠোঁটোর কোনে হাঁসি ফুটে উঠেছিল। ঠিক তখনি ওর পাশ ঘেষে একটা কালো মাইক্রো গাড়ি আগে চলে গেল…… তারপই এই ঘটনাটা ঘটলো যার জন্য মোটেও প্রস্তুত সে ছিলনা।


হস্পিটালে রাখা হয়েছে সাদিয়াকে। ওর বাড়ির লোকজন কেউই এসে পৌছায়নি এখনো হস্পিটালে। জ্ঞানহীন হয়ে বেডে পরে আছে সাদিয়া। ওর হাতটি আলতো করে ধরে রেখে, ঝাপসা চোখে চেয়ে আছে রায়হান। রায়হান এখনো সবকিছু মেনে নিতে পারছে না। এটা একটা দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে, ঘুম ভাঙলেই সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে মনে হচ্ছে।
” আর একমাস পর আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কেন? কি অপরাধ করেছিলাম যার শাস্তি আমার ভালোবাসাকে পেতে হলো? ” — ভাবছে রায়হান তখনি ওর ধরে রাখা সাদিয়ার হাতটি, ওর হাতটা চেপে ধরলো। সাদিয়ার জ্ঞান ফিরেছে তা দেখে রায়হান খুব খুশি হলো। বসা থেকে দাঁড়িয়ে দু’হাত দিয়ে সাদিয়ার দুই গলে আলতো করে হাত রেখে বললো ” সাদিয়া ” কিন্তু সাদিয়া ওর কথা শুনতে পেলো না, হয়তো ওর উপস্থিতিই টের পাচ্ছে না সাদিয়া।
সাদিয়ার ঙ্গান ফিরেছে এটা ডাক্তারকে জানানো দরকার —– ভেবে সাদিয়ার গালে আলতো হাত ছুঁয়ে দিয়ে ডাক্তার ডাকতে চলে গেল।



আজই শেষ দিন ! প্রিয় ছাত্রী মিমকে আর হয়তো কখন পড়ানো হবে না সাদিয়ার। বিয়ের পর সংসারের কাজকর্মের ফাকে হয়তো একটু সময় দিতে পারবে না মিমকে।

প্রিয় ছাত্রী মিমকে পড়ানো হলে, বোরকা পরে হিজাব আটকানোর সময় ছাত্রীর মা এসে বল,
— এটা ( হিজাবটা) এখন রাখো তো। আমি তোমার জন্য ভালো-মন্দ কিছু রান্না করেছি সেটা খেয়ে যাবে।
— আন্টি আপনি এসব করেছেন কেন। আম্মু আমার জন্য রান্না করে বসে আছে হয়তো। আসলে আমি……
— হুম, জানি….জানি! রোজা রেখেছ তাই তো ?
— হুম আন্টি আপনি কিভাবে জানলেন যে, আমি রোজা রেখেছি।
— তোমার আম্মুকে ফোন করেছিলাম তখনি জানতে পেরেছি। আর চিন্তা করো না তুমি ইফতার আমাদের এখানে করবে সেটা আপাকে জানিয়ে দিয়েছি।
— আন্টি আপনি সুধু সুধু এত কষ্ট করতে গেলেন কেন ?
— তুমি তো আমার মেয়ের মত আর তুমি যে আমার মেয়েকে পাঁচ বছর ধরে পড়াচ্ছো কোন টাকা নাও না সেটা? আচ্ছা আমি কি তোমার জন্য এতটুকু করতে পারি না?
— আন্টি…..
— আর একটাও কথা না। ওইতো আজান দিচ্ছে তাড়াতাড়ি অযু করে আসো, আমি ফ্রিজ থেকে তোমার জন্য বানিয়ে রাখা শরবতটা বের করি।
— ( মুচকি হেসে ) আচ্ছা।

সাদিয়া ইফতার করতে বসেছে ওর সাথে মিমও বসেছে আর মিমের আম্মু খাবার বেড়ে দিচ্ছে। এমন সময় “মা…..ওই মা” বলতে বলতে ডাইনিং রুমি ঢুকে মিম এর বড় ভাই ঈশান । সাদিয়া সঙ্গে সঙ্গে ওরনা দিয়ে নিজেকে ভালোভাবে ঢেকে নেয়। মিম এর আম্মু সেদিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,
— তুই এই রুমে এখন কেন আসছিস? দেখছিস না মিম এর ম্যাম আছে এই রুমে।
— উনি এখনো এখনে কি করেন? উনার তো এখন চলে যাবার কথা ছিল।
— আরে তোকে তো বলি নাই মিম এর ম্যাম এর বিয়ে ঠিক হয়েছে সে আর মিমকে পড়াতে আসবে না তাই তার জন্য ভালো-মন্দ কিছু রান্না করেছি আরকি। তাই সে এখনে এখন বুঝছিস?
কথাটা শুনে ইশান সেখান থেকে চলে গেল।

ইফতার সেরে, নামাজ পরে বের হতে অনেকটা সময় দেড়ি হয়ে গেল; চারিদিকে ঘন অন্ধকার নেমে এসেছে। সাদিয়া দ্রুত পা চালিয়ে বাসার দিকে রওনা হলো।
কিছুদূর আসার পর একটা গাড়ি ওর পথ আঁটকে দাঁড়ালো। গড়িটা থেকে কয়েকটা মাক্স পড়া ছেলে নেমে এল। সাদিয়া ভয় পয়ে গেল।কিছু আন্দাজ করতে পরে, পিছন ফিরে দৌড় দিতে যাবে তখনি ছেলেগুলো ওর মুখ চেপে ধরে টেনে গাড়িতে উঠালো। সাদিয়া প্রানপণ দিয়ে চেষ্টা করতে লাগলো তাদের হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে কিন্তু পাঁচজন ছেলের সাথে ও কিছুতেই পরে উঠলো না।
গাড়িটি একটি জঙ্গলের ভিতর ঢুকে যাচ্ছে, সাদিয়া নিজেকে ওই শয়তান গুলার হাত থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করছে আর ছেলেগুলো চেষ্টা করেছে ওকে ছিরে খেতে।
গড়ি থেমে গেছে ঘন জঙ্গল এর ভিতর, একের পর এক পশু ওর উপর ঝাপিয়ে পরছে। ওর আর্তনাদ গাড়ির গ্ললাসের ভিতর বন্দি হচ্ছে, বেরোবার পথ আটকে রেখেছে চারিদিকের গ্লাস।

ক্লান্ত পশুগুলার একজন ওকে গাড়ি থেকে টেনে হেঁচড়ে নামালো, একজন বড় একটা পাথর এনে ওর মুখের উপর ছুরতে যাবে…. তখনি “না….না বলি চেঁচিয়ে উঠলো সাদিয়া।

চলবে…….

[বিঃদ্র : ভুল-ত্রুটি ক্ষমাপূর্ণ ও সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, অনুরোধ। আপনাদের ভালো লাগলে গল্পটা কন্টিনিউ করবো। আর কেমন লেগেছে গল্পটা কমেন্টে জানাবেন।
ধন্যবাদ😊 ]

#পবিত্র_সম্পর্ক
লেখক : রিদন রায়হান
পর্ব : ০১

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *