গল্পঃশেষ থেকে শুরু

আন্তর্জাতিক করোনা নিউজ জব নিউজ প্রযুক্তি প্রতিদিন ভুটান লাইফ স্টাইল

-স্যার পানি।
-না চাচা লাগবে না।
-আচ্ছা।
ইন্টারভিউ দিতে এসেছি।গত একমাস যাবৎ চাকরির জন্য এখানে সেখানে ঘুরছি।আজ কোনোমতে চাকরিটা পাওয়া দরকার।এক মাস আগে চাকরিটা চলে যাওয়ায় খুব বিপদে পড়েছি।না সরি চাকরি যায় নি।কিছু সমস্যার কারণে কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে।এক মাস যাবৎ চাকরি খুজেও পাই নি।ইন্টারভিউ শেষের দিকে প্রায়।আমিই সবার শেষে আছি।আমার আগে যে ছিল তাকে কিছুক্ষণ আগেই পিয়ন এসেই ডাক দিল।ঐতো লোকটি বের হচ্ছে।আমি ওনাকে দেখে বললাম,
-ভাইজান ইন্টারভিউ কেমন হল??
লোকটি মুখ গোমড়া করে বলল,
-চাকরিটা হবে বলে মনে হয় না।
আমিও চিন্তায় পড়ে গেলাম।চাকরিটা যদি না পাই তাহলে খুব সমস্যা হবে।পিয়ন এসে নাম ধরে ডাক দিল,
আমি ভিতরে গেলাম।সামনে তিনজন লোক আর একজন মহিলা বসা ছিল।মহিলা পিছনে ফিরে ফোনে কার সাথে কথা বলছিলো।বাকিরা আমাকে সিটে বসতে বলল।মহিলাটি ফোন রেখে যখন আমার দিকে ফিরলো।আমি দেখেই কিছু সময়ের জন্য নির্বাক হয়ে গেলাম।সে এখানে কেনো??তাকে যে আমি কোনোদিনও না দেখার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।আজ তারই অফিসে এসেছি কাজের জন্য।সেও আমাকে দেখে নির্বাক।হয়তো আমাকে বুঝার চেষ্টা করছে।সবাই ফাইল চেক করলো।কিন্তু সে করেনি।চেক না করেই আমাকে বলল,
-আপনার এখানে চাকরি করার কারণ কি??
-জ্বি এক মাস আগে আমাদের কোম্পানিতে কিছু সমস্যা হয় যার কারণে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়।
-কতদিন হলো??
-জ্বি একমাস।
-এই একমাসে অন্য কোথাও কি এপ্লাই করেছেন??
-জ্বি??
-চাকরি হয়নি??
-না।
-আপনার নাম??
-জ্বি আমার সম্পর্কে সবকিছু ফাইলে দেওয়া আছে।
পাশ থেকে একজন লোক বলে উঠলো,
-হুমম গুড।আমাদের আপনার এই গুণটা ভালো লেগেছে।আপনার যেহেতু কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাহলে বলুন।তারা আমাকে অফিসিয়াল প্রশ্ন করতে লাগলো।আমিও সব প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগলাম।হঠাৎ একজন লোক বলে উঠলো,
-মেঘা ম্যাম আপনি কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।
-জ্বি জ্বি।
-তো মেঘ সাহেব আপনি কি বিবাহিত??
-ম্যাম পারসোনাল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব না।
-হুমম।আচ্ছা শুনেন আমাদের অফিসের নিয়ম হচ্ছে সবাইকে চুক্তিবদ্ধ হতে হয়।জানেনতো??
-জ্বি??
-পাঁচ বছরের চুক্তি হবে।এই পাচঁ বছর যাবৎ আপনি অন্য কোম্পানি ছেড়ে যেতে পারবেন না।আর যদি চুক্তি ভঙ্গ করেন তাহলে আপনাকে ৫০০০০০টাকা জরিমাণা দিতে হবে।আপনি কি রাজী??রাজী থাকলে এই কন্ট্রাকে সাইন আপ করুন।আর আপনার স্যালারি হবে মাসে ৩৫০০০টাকা।
-জ্বি আমি রাজী…দেন আমি সাইন করছি।
-ওকে মিঃ মেঘ আপনি কাল থেকে জয়েন করতে পারবেন।
-জ্বি ধন্যবাদ ম্যাম।আসি।
-ওহ হ্যা মেঘ সাহেব।আপনি আমার আন্ডারেই কাজ করবেন।
-জ্বি আচ্ছা।
আমি তাড়াতাড়ি চলে আসলাম।চাকরিটা খুব জরুরী।চাকরিটা করার ইচ্ছা নাই।কিন্তু আমার জন্য আমার মেয়েটা কেনো কষ্ট পাবে।সে তো কোনো ভুল করেনি।ভুল যে করেছে সে তো দিব্যিই আছে।নিজের ক্যারিয়ার।নিজের আত্নসম্মান নিয়ে।আমি তার চেহারাও দেখতা চাইনি।কিন্তু ভাগ্যের লিখন হয়তো।যাক আমি তড়িঘড়ি করে বাসায় আসলাম।বাসায় এসে বেল বাজাতেই মা এসে দরজা খুলে দিল।দরজা খুলার সাথে সাথেই মায়ের মুখে মিষ্টি গুজে দিয়ে বললাম,
-মা চাকরিটা পেয়ে গেছি।
-কি বলিস?
-হ্যা মা।মা জান্নাত কোথায়??
-সে ঘুমিয়ে আছে।
-আচ্ছা।
-মেঘ??
-জ্বি মা।
-কি হয়েছে মুখটা শুকনো কেনো??
-না মা কিছু না।
-আমি মা।আমি সব বুঝি কি হয়েছে বল??
আমি কাদতে কাদতে মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-মা আমাকে তারই অফিসে কাজ করতে হবে।
-কার??
-মেঘার।
-কিহ???
-হ্যা মা।
-তুই চাকরিটা করিস না বাবা।
-মা আমি যে চুক্তি করেছি।
-বাবা তুই দেখেশুনো থাকিস।
-আচ্ছা মা।
আমি আস্তে আস্তে জান্নাতের কাছে গেলাম।পিচ্ছিটা ঘুমাচ্ছে।ওকে ঘুমের মধ্যে একদম ওর মায়ের মতোই লাগছে।আমি ওর কপালে চুমু দিয়ে চলে আসতে যাবো তখনি সে আমার হাত টান দিয়ে বলল,
-বাবাই বাবাই আমাল জন্য চকলেত আনতে বলতিলাম।দাও আমাল চকলেত দাও??
-আমি কি আমার মামনির কথা ভুলে যাবো।এই নাও চকলেট।পকেট থেকে দুইটা চকলেট বের করে তাকে দিলাম।
সে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-বাবাই তুমি কত্ত কিউট??
-হুমম মামনি।চল এইবার উঠে ফ্রেশ হয়ে নাও।আমরা খেতে যাবো।
-না আমি খাবো না।তুমি আমাতে থাইয়ে দিবে।
-আচ্ছা মামনি দিব।এবার চল।
আমি আর জান্নাত ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলামখেতে।আমি জান্নাতকে খাইয়ে দিচ্ছি।এমন সময় মা বললো,
-বাবা তুই আরেকটা বিয়ে করে নে??আমি আর কতদিনই বা বেচে থাকবো।আমি চলে গেলে জান্নাতের কি হবে??
-মা এসব কথা বাদ দাও??
-বাবা তুই একটু ভেবে দেখ??
-মা তুমি সব জানো তারপরেও কেনো এসব বল??
-আমিও তো একজন মা।মা হয়ে সন্তানের কষ্ট কিভাবে সহ্য করবো??কেনো যে তোকে বুঝাতে পারিনা।
-মা বাদ দাও।তুমি খেয়ে ঔষুধ খেয়ে নিও।আমি জান্নাতকে নিয়ে যাচ্ছি রুমে।
-হুমম।
আমি জান্নাতকে নিয়ে রুমে চলে আসলাম।
-মা তুমি ঘুমাও??
-না বাবাই।আমি তোমার বুকে ঘুমাবো??
-আচ্ছা।

চলবে………………….

#গল্পঃশেষ থেকে শুরু।
#লেখকঃঅসমাপ্ত কাব্যের লেখক।
#পর্বঃ০১।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *